কমরেড গণজালোর মৃত্যু-পরবর্তী বিতর্ক
কমরেড গণজালোর গ্রেপ্তারের এক বছর পরই পেরুর কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে গণযুদ্ধ প্রশ্নে ডান সুবিধাবাদী লাইন (রোল- ROL- Right Opportunist Line) বা ‘শান্তি-চুক্তি লাইন’ এসেছিল। যা পেরুর গণযুদ্ধকে ধ্বংস করে দিয়েছে। সেই শান্তি লাইন নিয়ে বিশ্বব্যাপী বিতর্কও সৃষ্টি হয়েছিল। এই প্রস্তাবের পিছনে কোনো ভাবে গণজালোর ভূমিকা রয়েছে কি না- এমনটাই ছিল রিম কমিটির অনুসন্ধানমূলক পর্যবেক্ষণ। রিম অকার্যকর হয়ে গেলে সেই অনুসন্ধান ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নেয়া যায় নি। কিন্তু কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রিম কমিটির হাতে এসেছিল।
গণজালোর মৃত্যু পরবর্তীতে আমাদের দেশে বহুমাত্রিক নতুন বিতর্ক চলেছে। বিতর্কের ধরন হচ্ছে শান্তি প্রস্তাবে গণজালোর জড়িত থাকার সম্ভাবনাকে বাতিল করা। তারা বলছেন- গণজালো যদি সরকারের সাথে সমঝোতার জন্য শান্তি লাইন দিয়ে থাকেন তাহলে সরকার তাকে এতদিনে মুক্তি দিলো না কেন? তিনি জেলখানায় মারা গেলেন কেন? তার লাশ সৎকার করতে স্বজনদের দেয়া হলো না কেন? লাশ পুড়িয়ে ফেলা হল কেন? এমনকি রাজধানী লিমায় একটি স্মরণসভা করতে দিচ্ছে না কেন? এগুলো হচ্ছে গণশত্রুদের কৌশল-ষড়যন্ত্রকে না বুঝা, ঘটনা থেকে সরল-শিশুসুলভ মন্তব্য।
গণজালোকে হত্যা বা মুক্তির চেয়ে শাসকদের লক্ষ্য ছিল পেরুর বিপ্লবকে ধ্বংস করা। সেটায় তারা সফল হয়েছে। সুতরাং হত্যা করার প্রয়োজন নেই। দ্বিতীয়ত গণজালো ’৯২ সাল পর্যন্ত তাদের দৃষ্টিতে ‘রাষ্ট্রবিরোধী সন্ত্রাস ও অপরাধ’করেছে। সুতরাং তাকে তার জন্য শাস্তি পেতেই হবে! আর লাশ পুড়িয়ে ফেলার উদ্দেশ্য পরিষ্কার- পেরুসহ বিশ্ব জনগণকে ভয় দেখানো; দেখো ‘অপরাধের’শাস্তি কেমন। সুতরাং এগুলো প্রমাণ করে না তিনি ’৯৩-পরবর্তীতে ভিন্ন লাইন আনেননি। বিপ্লব ও গণযুদ্ধ ধ্বংস করার মিশন সফল হবার পর শাসকশ্রেণি ও রাষ্ট্রযন্ত্রের আর শান্তি-চুক্তির প্রয়োজন ছিল না।
কেউ কেউ আত্মগতভাবে বলার চেষ্টা করেছে- পিসিপি’র সাথে লাইনগত সংগ্রাম থাকায় আরসিপি গণজালো সম্পর্কে এমন সম্ভাব্য মূল্যায়ন করেছিল কি না। এমন মন্তব্য যারা করেন তারা রিম যে আন্তর্জাতিকের ভ্রুণ কেন্দ্র ছিল এবং সেটা পরিচালিত হতো কোনো একক পার্টির একক মতের/নেতৃত্বের ভিত্তিতে নয়, গণতান্ত্রিক কেন্দ্রীকতার ভিত্তিতে- সেটাই না বোঝা ।
কিছু সংগঠন/ব্যক্তি শুধুমাত্র গণজালোর ইতিবাচক ভূমিকা ঊর্ধ্বে তুলে ধরে বক্তব্য আনছেন। এই ধারা পেরুর গণযুদ্ধের কি হাল তার অনুসন্ধান বা লাইনগত সংগ্রামকে এড়িয়ে, বলা ভালো পেরুর বিপ্লবের পরিণতি বিবেচনা না করে, ব্যক্তি গণজালোর অন্ধ বন্দনায় ব্যস্ত। এজন্যই রিম-কমিটি পিসিপি’র গণযুদ্ধ প্রশ্নে দুই লাইনের সংগ্রামকে (টুএলএস) সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য “ব্যক্তি নয়; লাইনই নির্ধারক”বক্তব্য তুলে ধরেছিল।
গণজালো নিজে শান্তি লাইন এনেছিলেন কিনা বা এ লাইনের সপক্ষে থাকতে পারেন কিনা, তার কিছু তথ্য তুলে ধরা যাক। জেল থেকে গণজালোর নামে শান্তি প্রস্তাব আসার পরেও জেলের বাইরে যে-সব কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব গণযুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন তারা গ্রেফতার হওয়ার পরে শান্তি লাইনকে সমর্থন করেন। সিসি-সদস্য মার্গি ক্লাভো ওরফে ন্যান্সি এবং গণজালো গ্রেফতারের পরে পিসিপি’র প্রধান নেতা ফেলিসিয়ানো উভয়েই গ্রেফতার হওয়ার পরে বর্বর শারীরিক নির্যাতনেও ভেঙ্গে পড়েননি। তারা মিডিয়ার সামনে চিৎকার করে গণযুদ্ধে লেগে থাকার আহবান রেখেছিলেন। কিন্তু জেলে যাওয়ার পরে ন্যান্সি ১৮০ ডিগ্রী ঘুরে শান্তি লাইনের সমর্থক হয়ে পড়েন; বলেন গণজালোর সাথে আলোচনায় তিনি মত পরিবর্তন করে শান্তি লাইনকে সমর্থন করছেন। ফেলিসিয়ানো তার নেতৃত্বের উপর আস্থা হারিয়ে এক পর্যায়ে এমনকি কমিউনিজমের আদর্শকেও বর্জন করে বসেন।
আরেকজন আরটিমিও, যিনি ফেলিসিয়ানো ও ন্যান্সি গ্রেফতারের পরে পার্টি-প্রধান হন। তিনি যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি শান্তি লাইনের কট্টর সমর্থক হয়ে বলেন, গণজালো কারাগার থেকে রেডিও ট্রানসিভারের মাধ্যমে কথা বলে তাকে জয় করেছেন।
২০০৪ সালের ঘটনা। গণজালোর দ্বিতীয় মামলায় টেলিভিশনে প্রচারিত অনুষ্ঠানে দেখা যায় শতাধিক সাংবাদিকের উপস্থিতিতে গণজালো ফেলিসিয়ানো বাদে (সে তখন সমাজতন্ত্র বিরোধী অবস্থান নিয়েছে) ন্যান্সিসহ সকলের সাথে আলিঙ্গন করছেন। এরা সকলেই শান্তিচুক্তি লাইনের প্রকাশ্য সমর্থক নেতা হিসেবে পরিচিত। তারপরে তিনি সকলকেসহ উঠে দাঁড়ান, হাত মুষ্ঠিবদ্ধভাবে তুলে ধরে সুচিন্তিত শ্লোগান দেন-
পিসিপি জিন্দাবাদ! মালেমা-জিন্দাবাদ! গণযুদ্ধের বীরগণ-জিন্দাবাদ! কিন্তু তারা গণযুদ্ধে লেগে থাকো- এই প্রচলিত ¯স্লোগানটি দেননি।
এই স্লোগান একজন কর্মী বা সমর্থক দেননি, দিয়েছেন গণজালোর মতো ক্ষমতাধর একজন নেতা। যিনি পেরুতে বিপ্লব সৃষ্টি করেছিলেন। এবং বন্দী অবস্থায় খাঁচার ভাষণে ঘোষণা দিয়েছিলেন তার গ্রেফতার গণযুদ্ধের একটি বাঁক মাত্র! গণযুদ্ধে অটলভাবে লেগে থাকো- চালিয়ে যাও! যারা অনুমানে বলেন- বন্দি থাকার কারণে গণজালো তার অবস্থান জানাতে পারছেন না, তাদের কি এই প্রশ্ন জাগা উচিত নয় যে, তিনি এমন একটি সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একবারও যুদ্ধে লেগে থাকো বা শান্তি লাইন ধ্বংস হোক বলেননি কেন? এমনকি শান্তি-লাইনের প্রকাশ্য সমর্থকদেরকে কেন আলিঙ্গন করলেন? লাইনের একাত্মতা ব্যতীত গণজালোর পক্ষে এটা কি সম্ভব ছিল?
আরো একজন বিপ্লবী বুদ্ধিজীবী গণযুদ্ধ সমর্থক পত্রিকা ‘এলডিয়ারো’র সম্পাদক, পরবর্তীতে ইউরোপ প্রবাসী আরসি বোরজা, যিনি শান্তি লাইনকে শত্রুর ষড়যন্ত্র বলতেন এবং রিমের অনুসন্ধান-পর্যালোচনার জন্য কমিটিকে গালমন্দ করতেন। ২০০৫ সালে তিনি তার পূর্বের অবস্থান উল্লেখ না করেই ঘোষণা করেন- চেয়ারম্যান গণজালো একজন বিশ্বাসঘাতক। এছাড়া গণজালোর বান্ধবী ইপারাগুয়েরের (কমরেড মিরিয়াম) মা যিনি ১৯৯৩ সাল থেকেই তার কন্যা এবং গণজালোর সাথে দেখা করতেন। তার আইনজীবী ফাজার্দো ও আলফ্রেড ক্রেসপো- এরা সবাই দাবি করেছেন গণজালো যুদ্ধ থেকে রাজনৈতিক সমাধানের এক নতুন লাইনে কাজ করছেন। গণজালোর আপন ভায়রা লুইস- যাকে গণজালো নিজে প্রবাসে তার পক্ষে কথা বলার অধিকার দিয়েছিলেন, তিনিও, তার শ্বশুরসহ শান্তি লাইনকে সমর্থন করেন একই যুক্তিতে। তারা বলেন যে, গণজালো তাদের সাথে ফোনালাপে তার মত জানিয়েছেন।
পেরুর গণযুদ্ধে গণজালোর ভূমিকাকে মোটা দাগে দুই ভাগে ভাগ করতে হবে। ক. গণজালোর নেতৃত্বে ১২ বছরের সফল গণযুদ্ধ এবং তার গ্রেফতার পরবর্তী দুই লাইনের সংগ্রামের পর্যায়। আগামীতে পেরুর বিপ্লবকে কেন্দ্রে রেখে ‘লাইনই নির্ধারক’একে আঁকড়ে ধরেই সারসংকলন করতে হবে বিশ্ব বিপ্লবের স্বার্থে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
কমরেড গণজালোর মৃত্যু-পরবর্তী বিতর্ক
কমরেড গণজালোর গ্রেপ্তারের এক বছর পরই পেরুর কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে গণযুদ্ধ প্রশ্নে ডান সুবিধাবাদী লাইন (রোল- ROL- Right Opportunist Line) বা ‘শান্তি-চুক্তি লাইন’ এসেছিল। যা পেরুর গণযুদ্ধকে ধ্বংস করে দিয়েছে। সেই শান্তি লাইন নিয়ে বিশ্বব্যাপী বিতর্কও সৃষ্টি হয়েছিল। এই প্রস্তাবের পিছনে কোনো ভাবে গণজালোর ভূমিকা রয়েছে কি না- এমনটাই ছিল রিম কমিটির অনুসন্ধানমূলক পর্যবেক্ষণ। রিম অকার্যকর হয়ে গেলে সেই অনুসন্ধান ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নেয়া যায় নি। কিন্তু কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রিম কমিটির হাতে এসেছিল।
গণজালোর মৃত্যু পরবর্তীতে আমাদের দেশে বহুমাত্রিক নতুন বিতর্ক চলেছে। বিতর্কের ধরন হচ্ছে শান্তি প্রস্তাবে গণজালোর জড়িত থাকার সম্ভাবনাকে বাতিল করা। তারা বলছেন- গণজালো যদি সরকারের সাথে সমঝোতার জন্য শান্তি লাইন দিয়ে থাকেন তাহলে সরকার তাকে এতদিনে মুক্তি দিলো না কেন? তিনি জেলখানায় মারা গেলেন কেন? তার লাশ সৎকার করতে স্বজনদের দেয়া হলো না কেন? লাশ পুড়িয়ে ফেলা হল কেন? এমনকি রাজধানী লিমায় একটি স্মরণসভা করতে দিচ্ছে না কেন? এগুলো হচ্ছে গণশত্রুদের কৌশল-ষড়যন্ত্রকে না বুঝা, ঘটনা থেকে সরল-শিশুসুলভ মন্তব্য।
গণজালোকে হত্যা বা মুক্তির চেয়ে শাসকদের লক্ষ্য ছিল পেরুর বিপ্লবকে ধ্বংস করা। সেটায় তারা সফল হয়েছে। সুতরাং হত্যা করার প্রয়োজন নেই। দ্বিতীয়ত গণজালো ’৯২ সাল পর্যন্ত তাদের দৃষ্টিতে ‘রাষ্ট্রবিরোধী সন্ত্রাস ও অপরাধ’করেছে। সুতরাং তাকে তার জন্য শাস্তি পেতেই হবে! আর লাশ পুড়িয়ে ফেলার উদ্দেশ্য পরিষ্কার- পেরুসহ বিশ্ব জনগণকে ভয় দেখানো; দেখো ‘অপরাধের’শাস্তি কেমন। সুতরাং এগুলো প্রমাণ করে না তিনি ’৯৩-পরবর্তীতে ভিন্ন লাইন আনেননি। বিপ্লব ও গণযুদ্ধ ধ্বংস করার মিশন সফল হবার পর শাসকশ্রেণি ও রাষ্ট্রযন্ত্রের আর শান্তি-চুক্তির প্রয়োজন ছিল না।
কেউ কেউ আত্মগতভাবে বলার চেষ্টা করেছে- পিসিপি’র সাথে লাইনগত সংগ্রাম থাকায় আরসিপি গণজালো সম্পর্কে এমন সম্ভাব্য মূল্যায়ন করেছিল কি না। এমন মন্তব্য যারা করেন তারা রিম যে আন্তর্জাতিকের ভ্রুণ কেন্দ্র ছিল এবং সেটা পরিচালিত হতো কোনো একক পার্টির একক মতের/নেতৃত্বের ভিত্তিতে নয়, গণতান্ত্রিক কেন্দ্রীকতার ভিত্তিতে- সেটাই না বোঝা ।
কিছু সংগঠন/ব্যক্তি শুধুমাত্র গণজালোর ইতিবাচক ভূমিকা ঊর্ধ্বে তুলে ধরে বক্তব্য আনছেন। এই ধারা পেরুর গণযুদ্ধের কি হাল তার অনুসন্ধান বা লাইনগত সংগ্রামকে এড়িয়ে, বলা ভালো পেরুর বিপ্লবের পরিণতি বিবেচনা না করে, ব্যক্তি গণজালোর অন্ধ বন্দনায় ব্যস্ত। এজন্যই রিম-কমিটি পিসিপি’র গণযুদ্ধ প্রশ্নে দুই লাইনের সংগ্রামকে (টুএলএস) সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য “ব্যক্তি নয়; লাইনই নির্ধারক”বক্তব্য তুলে ধরেছিল।
গণজালো নিজে শান্তি লাইন এনেছিলেন কিনা বা এ লাইনের সপক্ষে থাকতে পারেন কিনা, তার কিছু তথ্য তুলে ধরা যাক। জেল থেকে গণজালোর নামে শান্তি প্রস্তাব আসার পরেও জেলের বাইরে যে-সব কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব গণযুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন তারা গ্রেফতার হওয়ার পরে শান্তি লাইনকে সমর্থন করেন। সিসি-সদস্য মার্গি ক্লাভো ওরফে ন্যান্সি এবং গণজালো গ্রেফতারের পরে পিসিপি’র প্রধান নেতা ফেলিসিয়ানো উভয়েই গ্রেফতার হওয়ার পরে বর্বর শারীরিক নির্যাতনেও ভেঙ্গে পড়েননি। তারা মিডিয়ার সামনে চিৎকার করে গণযুদ্ধে লেগে থাকার আহবান রেখেছিলেন। কিন্তু জেলে যাওয়ার পরে ন্যান্সি ১৮০ ডিগ্রী ঘুরে শান্তি লাইনের সমর্থক হয়ে পড়েন; বলেন গণজালোর সাথে আলোচনায় তিনি মত পরিবর্তন করে শান্তি লাইনকে সমর্থন করছেন। ফেলিসিয়ানো তার নেতৃত্বের উপর আস্থা হারিয়ে এক পর্যায়ে এমনকি কমিউনিজমের আদর্শকেও বর্জন করে বসেন।
আরেকজন আরটিমিও, যিনি ফেলিসিয়ানো ও ন্যান্সি গ্রেফতারের পরে পার্টি-প্রধান হন। তিনি যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি শান্তি লাইনের কট্টর সমর্থক হয়ে বলেন, গণজালো কারাগার থেকে রেডিও ট্রানসিভারের মাধ্যমে কথা বলে তাকে জয় করেছেন।
২০০৪ সালের ঘটনা। গণজালোর দ্বিতীয় মামলায় টেলিভিশনে প্রচারিত অনুষ্ঠানে দেখা যায় শতাধিক সাংবাদিকের উপস্থিতিতে গণজালো ফেলিসিয়ানো বাদে (সে তখন সমাজতন্ত্র বিরোধী অবস্থান নিয়েছে) ন্যান্সিসহ সকলের সাথে আলিঙ্গন করছেন। এরা সকলেই শান্তিচুক্তি লাইনের প্রকাশ্য সমর্থক নেতা হিসেবে পরিচিত। তারপরে তিনি সকলকেসহ উঠে দাঁড়ান, হাত মুষ্ঠিবদ্ধভাবে তুলে ধরে সুচিন্তিত শ্লোগান দেন-
পিসিপি জিন্দাবাদ! মালেমা-জিন্দাবাদ! গণযুদ্ধের বীরগণ-জিন্দাবাদ! কিন্তু তারা গণযুদ্ধে লেগে থাকো- এই প্রচলিত ¯স্লোগানটি দেননি।
এই স্লোগান একজন কর্মী বা সমর্থক দেননি, দিয়েছেন গণজালোর মতো ক্ষমতাধর একজন নেতা। যিনি পেরুতে বিপ্লব সৃষ্টি করেছিলেন। এবং বন্দী অবস্থায় খাঁচার ভাষণে ঘোষণা দিয়েছিলেন তার গ্রেফতার গণযুদ্ধের একটি বাঁক মাত্র! গণযুদ্ধে অটলভাবে লেগে থাকো- চালিয়ে যাও! যারা অনুমানে বলেন- বন্দি থাকার কারণে গণজালো তার অবস্থান জানাতে পারছেন না, তাদের কি এই প্রশ্ন জাগা উচিত নয় যে, তিনি এমন একটি সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একবারও যুদ্ধে লেগে থাকো বা শান্তি লাইন ধ্বংস হোক বলেননি কেন? এমনকি শান্তি-লাইনের প্রকাশ্য সমর্থকদেরকে কেন আলিঙ্গন করলেন? লাইনের একাত্মতা ব্যতীত গণজালোর পক্ষে এটা কি সম্ভব ছিল?
আরো একজন বিপ্লবী বুদ্ধিজীবী গণযুদ্ধ সমর্থক পত্রিকা ‘এলডিয়ারো’র সম্পাদক, পরবর্তীতে ইউরোপ প্রবাসী আরসি বোরজা, যিনি শান্তি লাইনকে শত্রুর ষড়যন্ত্র বলতেন এবং রিমের অনুসন্ধান-পর্যালোচনার জন্য কমিটিকে গালমন্দ করতেন। ২০০৫ সালে তিনি তার পূর্বের অবস্থান উল্লেখ না করেই ঘোষণা করেন- চেয়ারম্যান গণজালো একজন বিশ্বাসঘাতক। এছাড়া গণজালোর বান্ধবী ইপারাগুয়েরের (কমরেড মিরিয়াম) মা যিনি ১৯৯৩ সাল থেকেই তার কন্যা এবং গণজালোর সাথে দেখা করতেন। তার আইনজীবী ফাজার্দো ও আলফ্রেড ক্রেসপো- এরা সবাই দাবি করেছেন গণজালো যুদ্ধ থেকে রাজনৈতিক সমাধানের এক নতুন লাইনে কাজ করছেন। গণজালোর আপন ভায়রা লুইস- যাকে গণজালো নিজে প্রবাসে তার পক্ষে কথা বলার অধিকার দিয়েছিলেন, তিনিও, তার শ্বশুরসহ শান্তি লাইনকে সমর্থন করেন একই যুক্তিতে। তারা বলেন যে, গণজালো তাদের সাথে ফোনালাপে তার মত জানিয়েছেন।
পেরুর গণযুদ্ধে গণজালোর ভূমিকাকে মোটা দাগে দুই ভাগে ভাগ করতে হবে। ক. গণজালোর নেতৃত্বে ১২ বছরের সফল গণযুদ্ধ এবং তার গ্রেফতার পরবর্তী দুই লাইনের সংগ্রামের পর্যায়। আগামীতে পেরুর বিপ্লবকে কেন্দ্রে রেখে ‘লাইনই নির্ধারক’একে আঁকড়ে ধরেই সারসংকলন করতে হবে বিশ্ব বিপ্লবের স্বার্থে।
আরও খবর
- শনি
- রোব
- সোম
- মঙ্গল
- বুধ
- বৃহ
- শুক্র
